দেশকন্ঠ অনলাইন : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মঙ্গলবার থেকে ওভারটাইমের নিয়ম শিথিল করছে জাপান। তবে এ পদক্ষেপকে দেশটির দীর্ঘদিনের কাজপাগল সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। কাজপাগল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাইয়ে একটি প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করে। এতে কর্মঘণ্টার বর্তমান তদারকি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়। এর পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।শ্রমিকের তীব্র সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে কিছু ব্যবসায়ী খাত আরও নমনীয় কর্মপদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসছিল। এই পরিবর্তনের পেছনে তাদের দাবিও আংশিকভাবে কাজ করেছে। জাপানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিশেষ চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে আইনগতভাবে মাসে সর্বোচ্চ ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইমের অনুমতি রয়েছে।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষ মাসে ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে ওভারটাইম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছিল। এই নির্দেশনাকে কার্যত নিয়মের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এর কারণ হলো ৪৫ ঘণ্টার সীমা অতিক্রম করলে ‘কারোশি’ বা অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর নতুন নিয়মে শ্রমমান পরিদর্শন দপ্তরগুলো ৪৫ ঘণ্টার সীমা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর চাপ প্রয়োগ করবে না।
জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক জরিপে মে মাসে দেখা যায়, এ ধরনের চাপ দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ‘সীমিত’ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণ, পরিবহন ও আতিথেয়তা খাতের মতো জনবল সংকটে থাকা শিল্পগুলো এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলেছেন, এ পদক্ষেপে জাপানের করপোরেট সংস্কার কার্যক্রম পিছিয়ে যাবে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা করপোরেট সংস্কৃতিকে আধুনিক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এটি তার বিপরীতমুখী পদক্ষেপ।
দেশকন্ঠ/এআর