দেশকন্ঠ অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বেদখলে থাকা প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ২০ শতাংশ সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। ২৬ আগস্ট সকালে ফতুল্লার মধ্য সস্তাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করা হয়। পরে উদ্ধার করা জমির চারপাশে সরকারি নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে সরকারি সম্পত্তিতে বালু ভরাট করে দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে ফারুক আহমেদ নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফারুক সস্তাপুর এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংমাচিং মারমাসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির রাস্তা নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, সরকারি খাস জমি।
এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়।অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির নেতা আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর পরিবর্তে তাঁর ভাই ফারুক আহমেদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি জমিতে বালু ভরাট করে দখলের চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে আইনের আওতায় এনে জরিমানা করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইউএনও এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘সস্তাপুর এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে উদ্ধার করা ২০ শতাংশ সরকারি সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। জমিটি সরকারি দখলে নিয়ে চারপাশে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’স্থানীয়রা জানান, জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কথা তাঁরা শুনে আসছেন। তবে এটি সরকারি খাস জমি—এমন তথ্য তাঁদের জানা ছিল না। উদ্ধার করা জায়গাটিতে একটি মসজিদ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।
দেশকন্ঠ/এআর