• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৭:৩৮    ঢাকা সময়: ০৩:৩৮

পাকস্থলীর অ্যাসিড কি রেজর ব্লেড গলিয়ে দেয়? জানুন আসল সত্য

  • স্বাস্থ্য       
  • ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬       
  •       
  • ০০:০৩:২৮

দেশকন্ঠ  অনলাইন : রেজর ব্লেডের মতো ধাতব জিনিস পাকস্থলীতে গেলে কী হয়? পাকস্থলীর অ্যাসিড কি সত্যিই সেটিকে গলিয়ে ফেলতে পারে? বিষয়টি শুনতে অবাক করার মতো হলেও এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা। এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম পাকস্থলীর রসের মধ্যে স্টেইনলেস স্টিলের রেজর ব্লেড রেখে পরীক্ষা করেছিলেন। সেখানে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকলে ব্লেড দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের পাকস্থলীতে ঢোকার পর রেজর ব্লেড দ্রুত বা নিরাপদভাবে গলে যায়।
 
কীভাবে হয়েছিল পরীক্ষা?
গবেষণায় রেজর ব্লেড, ডিস্ক ব্যাটারি ও কয়েনকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কৃত্রিম পাকস্থলীর রসে রাখা হয়।এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর এসব ধাতব বস্তুর ওজন ও শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাসিডের মধ্যে যত বেশি সময় রাখা হয়েছে, রেজর ব্লেডের ক্ষয়ও তত বেড়েছে।
 
২৪ ঘণ্টায় কমে যায় ওজন
পরীক্ষায় দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টা পর রেজর ব্লেডের ওজন মূল ওজনের প্রায় ৬৩ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে ব্লেড তার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভর হারায়।এ ছাড়া ডাবল-এজড রেজর ব্লেড প্রায় ১৫ ঘণ্টা অ্যাসিডে থাকার পর এতটাই দুর্বল হয়ে যায় যে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে সেটি ভাঙা সম্ভব হয়।
 
সিঙ্গেল-এজড ব্লেডের পেছনের মোটা অংশও তুলনামূলক দ্রুত ক্ষয় হয়। গবেষণায় সেটি প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষয় হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।অন্যদিকে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত কয়েনের ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ডিস্ক ব্যাটারির ক্ষেত্রেও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এর ভেতরের উপাদান বেরিয়ে আসার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 
তাহলে কি পাকস্থলী রেজর ব্লেড গলিয়ে ফেলে?
এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণাটি কৃত্রিম পাকস্থলীর রস নিয়ে ল্যাবরেটরিতে করা হয়েছিল। বাস্তব মানুষের পাকস্থলীতে খাবার সাধারণত দীর্ঘ সময় অবস্থান করে না।ফলে ল্যাবের পরীক্ষার ফলকে সরাসরি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। পাকস্থলীর অ্যাসিড ধাতুকে ক্ষয় করতে পারে—এটি সত্য। কিন্তু গিলে ফেলা রেজর ব্লেড দ্রুত বা নিরাপদভাবে গলে যাবে, এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
 
ধারালো ধাতব বস্তু গিলে ফেললে কী হয়?
ধারালো কোনো বস্তু গিলে ফেলা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি খাদ্যনালি বা পরিপাকতন্ত্রে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। এমনকি ভেতরে ছিদ্র, রক্তপাত বা সংক্রমণের মতো জটিলতাও হতে পারে।এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পাকস্থলীর অ্যাসিড বস্তুটি গলিয়ে দেবে—এমন অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকেরা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বস্তুটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। উল্লেখ্য পাকস্থলীর অ্যাসিড ধাতুকে ক্ষয় করতে সক্ষম হলেও, রেজর ব্লেড গিলে ফেলা কখনোই নিরাপদ 
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।