দেশকন্ঠ অনলাইন : লিওনেল মেসি তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে ইন্টার মায়ামির ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। কিন্তু বাবার প্রতি এক আবেগঘন বার্তায় তিনি অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি জানি না কিভাবে সামনে এগিয়ে যাব। আমি কেবল ফুটবলটাই খেলতাম, আর এখন আমি সত্যিই নিশ্চিত নই যে আর বেশিদিন এটি চালিয়ে যাব কিনা।তিনি বার্সেলোনা, প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনার হয়ে সব মিলিয়ে ৯২১টি গোল করেছেন।
বিবিসি স্পোর্টস তার এই অসাধারণ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কিছু মুহূর্তের ওপর আলোকপাত করছে।১৯ বছর বয়সে মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকটি এসেছিল ফুটবলের অন্যতম বড় ম্যাচ এল ক্লাসিকোতে। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিকটি করেন তিনি।
রিয়ালের বিপক্ষে সেই হ্যাটট্রিক করার ঠিক এক মাসের কিছু বেশি সময় পর, মেসি এমন একটি গোল করেন যা সম্ভবত তিনি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের বাকি সময়ে আর কখনো ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। গোলটি এসেছিল ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে গেটাফের বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয়ে ম্যাচে।২০০৯ সালে কিছু ইংলিশ ফুটবল ভক্ত ও সাংবাদিক প্রশ্ন তুলেছিলেন, মেসি ইউরোপে ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সফল হতে পারবেন কি না—কারণ তিনি প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে গোল কোন গোল করতে ব্যর্থ ছিলেন।
এই কথার জবাব তিনি চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মধ্যে তিনটি ফাইনাল জয়ে গোল করেন। তারমধ্যে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দলের বিপক্ষে একটি ফাইনালে গোল ছিল এই মহাতারকার।২০২১ সালে, ৩৪ বছর বয়সে মেসি তার প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেন, মারাকানায় অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।
তারপরের বছরই এমন এক এক বিজয় ও মুহূর্ত এলো যা হয়তো কখনোই ঘটবে না বলে মনে হয়েছিল, কারণ মেসি এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর আবার ফিরে এসেছিলেন। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার কি না, এই বিতর্কে এই বিষয়টিই সব সময় তার বিপক্ষে যেত। সব বিতর্কে অবসান টেনে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার যোগ্যতা অর্জন করে দেন এই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার।
দেশকন্ঠ/এআর